সংসদকে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

চার মোবাইল অপারেটরের কাছে ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া

দেশে কার্যরত চার মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের মোট ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

গতকাল সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফর রহমানের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন লিমিটেডের কাছে ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে ৬১৫ কোটি টাকা এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে গ্রামীণফোনের কাছে। ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মোট পাওনা ছিল ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি দুই কিস্তিতে ২ হাজার কোটি টাকা এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলার রায়ের পর আরো ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে বর্তমানে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকায়। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

রাজস্ব বকেয়ার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক। লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটিতে রূপান্তরের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে মোট ৬১৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি-সংক্রান্ত ৪৯০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাবদ ১২৫ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত। এ দুই বিষয়েই আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ক্ষেত্রে ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ মোট পাওনা ছিল ৮১১ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ১৬৬ কোটি টাকা এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলার রায়ের পর ২১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করায় বর্তমানে এ খাতে বকেয়া রয়েছে ৪৩০ কোটি টাকা। এছাড়া পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর প্রযোজ্য মূসক বাবদ আরো ৪৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে বিটিআরসির মামলা দায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘‌বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা, কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট এবং পুরনো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রাহকসেবার মান বাড়াতে সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘‌মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রাহকস্বার্থ সুরক্ষায় কোয়ালিটি অব সার্ভিস বেঞ্চমার্কিং সিস্টেম-সংক্রান্ত পদ্ধতিমালা জারি করা হয়েছে, যার হালনাগাদ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।’

তিনি জানান, এর ধারাবাহিকতায় নতুন জারীকৃত নির্দেশিকার আলোকে ২০২৬ সালে প্রাথমিকভাবে দেশব্যাপী প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার এলাকায় ড্রাইভ টেস্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান যাচাই করা হচ্ছে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘‌দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ঢাকা জেলাতেও টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়নে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ড্রাইভ টেস্ট পরিচালনা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘‌আধুনিক, নিরবচ্ছিন্ন ও গ্রাহকবান্ধব মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

আরও